Labour of Love : ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে

ঋতম ঘোষাল


মাঝে মাঝে বাংলা ছবি দেখতে বসে সত্যিই সংশয় জাগতো যে বাংলা ছবি আদৌ বাংলার মানুষদের নিয়ে তৈরি হয় কিনা?অর্থাৎ গোদা বাংলায় বাংলা ছবির চরিত্ররা এই বাংলার মানুষ কিনা। তাঁরা যে অর্ধবিকৃত ফরাসী টানের অথবা ককনি অ্যাক্সেন্টের ইংরেজি এবং অর্ধেক মুখভর্তি কাল্পনিক চিউইং গাম নিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বাংলায় কথা বলেন মহার্ঘ্য কফিশপ বা আধো অন্ধকার লিভিং রুমে বসে , তা আমাদের কোন সোশ্যাল স্ট্রাটা কে নির্দেশ করে? তাহলে কি আর মিনিবাসে চড়ে বাঙালি অফিস যায় না?বাজারে গিয়ে কাটা

আরও পড়ুন

কতবার তোর আয়না ভেঙ্গেচুরে :: কিন্টসুকুরোই

ঋতম ঘোষাল


কিন্টসুকুরোই।ডাল- ভাত- আনন্দবাজার- টিভি সিরিয়াল পুষ্ট বাঙ্গালী জীবনে আপাত অর্থহীন একটা শব্দ হলেও আদতে এটি জাপানি একটি শিল্পরীতি, যেখানে ভাঙা কোন পাত্রকে মেরামত করা হয় দামী ধাতু (সাধারণত সোনা) দিয়ে।এর ফলে সৌন্দর্যবৃদ্ধি ছাড়াও মেরামত হওয়া পাত্রটির দাম মূল পাত্রটির থেকে অনেকটাই বেড়ে যায়।বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখার দান এই ‘perfection amongst imperfect’ দর্শনের গল্পই বলে নতুন পরিচালক কৌস্তভ ভট্টাচার্য্যের ছবি ‘কিন্টসুকুরোই’।
এই বছর কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের শর্ট ফি

আরও পড়ুন

পিকু , প্যানপেনে বাঙালি গল্প নয়, থ্যাঙ্ক গড

যশোধরা রায়চৌধুরী


ছবির সমালোচনা করিনি আগে কখনো । স্বতঃ প্রবৃত্ত হয়ে হিন্দি ছবি পিকু-র কথা লিখতে কেন বসলাম?
ছবিটা দেখতে গেছিলাম মনে মনে নাক কুঁচকে। প্রোমো দেখে মনে হয়েছিল, বড্ড বেশি ব্ল্যাক হিউমার। ডার্ক কমেডির আঁচ ছিল। পেটখারাপ –কনস্টিপেশন-পায়খানা অবসেশন সম্পন্ন এক বৃদ্ধে র ভূমিকায় অমিতাভ বচচন। মহামান্য অভিনেতা। তাই তিনি যা করবেন তাই সই। নায়িকা , কন্যার রোলে , তথা নামভূমিকায়, লাস্যময়ী দীপিকা পাড়ুকোনে।
আর আছেন ইরফান। নিশ্চয় রাগি যুবকের রোল। একটা রোড ট্রিপের আভ

আরও পড়ুন

বেঁচে থাকা বাঙালির ছবি

বিশ্বজিৎ রায়


১৯৭৯ । হৃষীকেশ মুখার্জির ‘গোলমাল’-এ অমিতাভ বচ্চনের গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স । আমার আপনার মতো মধ্যবিত্ত বাড়ির বেকার ছেলে অমল পালেকর ইন্টারভিউ দিতে যাবে । পাজামা পাঞ্জাবি পরে ইন্টারভিউ দিতে গেলে নাকি সাবেকি মূল্যবোধের মানুষ উৎপল দত্তের ফার্মে চাকরি পাকা । তাই স্টুডিওতে এসেছে বন্ধুর কাছে পাজামা-পাঞ্জাবি ধার নিতে । স্টুডিওতে অনেক নায়কের জন্য অনেক পাজামা-পাঞ্জাবির ব্যবস্থা । অমল পালেকর স্টুডিওতে ঢুকছে, অমিতাভ বচ্চন তখন শুটিং শেষ করে বাড়ি যাচ্ছেন । অমি

আরও পড়ুন

ডিটেক্‌টিভ বেওমকেশ বাকশি! (স্পয়লর আছে)

অভিষেক মুখোপাধ্যায়


বেওমকেশ বাকশির সহিত আমার প্রথম পরিচয় হইয়াছিল বোধকরি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমনরূমে।

পয়সার আমার টানাটানি থাকার কথা ছিল না, কিন্তু পিতৃদেব যে শুধু দ্বিতীয়বার দার পরিগ্রহ করিলেন তাহাই নহে, উপরন্তু চাকরি হইতে বিতাড়িত হইলেন। তিনি ঠিক কী করিতেন জানা নাই, কিন্তু শুনিয়াছি আফিম-কোকেন জাতীয় নিষিদ্ধ বস্তু লইয়া নানাবিধ পরীক্ষানিরীক্ষা করিতেন।

স্থির করিয়াছিলাম, কৌমার্যব্রত অবলম্বন করিয়া সাহিত্যচর্চায় জীবন অতিবাহিত করিব, কিন্তু সে গুড়ে বালুকাকণা। পি

আরও পড়ুন

বাদশাহী কেলেঙ্কারি

অরুনাভ গঙ্গোপাধ্যায়


অনেকদিন আগে একটা কবিতা শুনেছিলাম।

কবিতার শীর্ষক ছিলঃ-
“আমি জলে ঝাঁপ দিলাম”

এবারে কবিতাটা বলিঃ-

“ঝুপ”।

কবিতা শেষ।


আজকে একটা সিনেমা দেখে এলাম।

সিনেমার নামঃ- “বাদশাহী আংটি”

সেই সিনেমা নিয়ে একটা রিভিউ লিখতে বলা হয়েছে আমায়। আচ্ছা।
লিখব।
লিখছি।
লিখলাম।
পড়ে দেখুন- “কেন?”

রিভিউ শেষ।

কিন্তু সম্পাদক বলল, আর একটু বাড়া (সম্পাদক আমাকে তুইতোকারিই করে, কেউ কোনও অসভ্য কথা ভাববেননা)।

তাই বাড়াল

আরও পড়ুন

শুধু যাওয়া আসা...

অরুণাভ গঙ্গোপাধ্যায়


রেখেছি আজ শান্ত শীতল ক’রে
অঙ্গন মোর চন্দনসৌরভে।
সেরেছি কাজ সারাটা দিন ধরে,
তোমার এবার সময় কখন হবে?

এই ক’টি লাইন... সেখান থেকে আঁজলা ভরে কয়েক কুচি অপেক্ষা নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া যেন লক্ষীর ঝাঁপি থেকে অনবধানে মাটিতে ছড়িয়ে যাচ্ছে সোনার গুঁড়োর মতো কিছু ধান... সেখানে মাথা তুলছে ঢলঢলে ক’টা গাছ... দুলছে... অপেক্ষায়... লাল মেঝেতে যেন পায়ের জলছাপ দিচ্ছেন লক্ষ্মী... শুকিয়ে যাচ্ছে... অপেক্ষায়... শহরের অনেক ঘর থেকে লক্ষী যখন তাঁর আসন তুলে নিচ্ছেন, নিজেদের বিচূর্ণ সং

আরও পড়ুন

কেতনের রংমহল

সরোজ দরবার


‘লংগেস্ট প্রেগনেন্সি’।
আপকামিং ছবি ‘রঙ রসিয়া’র জন্য এই শব্দ দুটিই ব্যবহার করলেন পরিচালক কেতন মেহতা। আট বছর সময়টা তো কম নয়। যে বলিউড কালারফুল লাইফের সেলিব্রেট করে, সেখানেই কিনা এক রঙের মানুষের জীবনের উপর ছবি এতগুলো বছর মুক্তির অপেক্ষায় আটকে ছিল। ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিং শুরুর আগে নন্দনা সেন দর্শককে (আসনে তখন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, গৌতম ঘোষের মতো পরিচালক) ‘খোলা মনে’ ছবিটা দেখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর নিজের শহর ছবিটার প্রতিক্রিয়া কী হবে, হ্য়তো তাই ন

আরও পড়ুন

চলচ্চিত্র আলোচনা - ‘চতুষ্কোণ’

সরোজ দরবার


ভরা শরতে বসন্তের গান কি একটু বেমানান? হতে পারত, যদি প্রেক্ষাপটটা তেমন প্রাচুর্য এবং ঐশ্বর্যে ভরা না হয়। কিন্তু সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘চতুষ্কোণ’ শরতের আগমনীর ভিতরই অনায়াসে শুনিয়ে দিতে পারে বসন্তের গান। সে বসন্ত অবশ্যই বাংলা ছবির। সে বসন্ত অবশ্যই বালকবেলা থেকে সাবালকত্বে পা দিয়ে অনুভবের বসন্ত। চতুষ্কোণের হাত ধরে যার স্বাদ নিতে পারে বাঙালি দর্শক এই শরতেই।


চার এক্কে এক পরিচালক
এক ছবির ভিতর চার পরিচালক। চার জনেই আলাদা আলাদা ছবির গল্প

আরও পড়ুন

ভিন্নমত - রিভিউ- চতুষ্কোণ - কিছু কখা

জনৈক চলচ্চিত্র প্রেমী

(কিছু কথা- সাধারনত একটা ওয়েবসাইটে একই সিনেমার দুটি রিভিউ প্রকাশিত হয় না, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে চতুষ্কোণ নিয়ে একজন সমালোচক ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন সেটিও সবার সামনে তুলে ধরা উচিত। তাই এই প্রকাশ। )



প্রথমেই জানিয়ে রাখি আমি পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের একজন গুণগ্রাহী দর্শক। তাই আশা রাখলাম যে পাঠক এই প্রতিবেদনের মধ্যে কোনপ্রকার বৈরিতার গন্ধ খুঁজতে যাবেন না। অন্য সবার মতন চতুষ্কোণ মুক্তির দিন গুনছিলাম আমিও কারন এই ছবির কলাকুশলীরা প্রত্যেকে

আরও পড়ুন

এক পৃথিবী জীবনের রূপক ‘ফ্যানি’

অরুণাভ গঙ্গোপাধ্যায়


সেই কোন কালে মানুষ যবে থেকে ‘ভালোবাসা’কে গর্ভে ধারণ করেছে আর পৃথিবী গ্রহে যবে থেকে ‘শিল্প’ নামে এক পাগলামো শুরু হয়েছে তবে থেকে শিল্প তার কোলে কাঁখে চড়িয়ে ভালোবাসাকে কতরকম ভাবে যে মানুষ করেছে... কিন্তু ভালোবাসা আসলে চরম এক ‘অ্যাবসার্ড’ অনুভূতি বই তো নয়! কারণ তাকে তো আমরা না পাই চাক্ষুষ করতে না পাই ছুঁতে না পারি তুমুল ভাবে জাপটাতে- আসলে তো হাওয়ার যমজ ভালোবাসা- তবু এই বায়বীয় অস্তিত্বময় এক অনুভূতির জন্যই মানুষ যুগের পর যুগ ধরে মরেছে, মনোবিকারে ভুগেছে, আবার

আরও পড়ুন

বুনো হাঁস

সরোজ দরবার


৭.৫/১০


রসগোল্লা, মিষ্টিদই আর রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও বাঙালির কুলুঙ্গিতে আরও কিছু আবেগ-বিগ্রহ তোলা থাকে। যেমন- ওপার বাংলার জন্য নাড়ির টান, সারাজীবন কিচ্ছু না চাওয়া বিধবা মায়ের শেষ বয়সের হঠাৎ আবদার, সংসারের জোয়াল টানতে টানতে শুকিয়ে যাওয়া দিদির মতো বৌদি, বাপ ঠাকুদ্দার বালি খসে যাওয়া বাড়ি, না হয়ে উঠতে পারা প্রেম এবং বাঙালি মধ্যবিত্ত যুবকের না শুঁয়োপোকা না প্রজাপতি হয়ে উঠতে পারা ও অবশেষে দুধমাখা ভাত কাকে খেলে খোকনরে তুই ঘরে আয়...। এসব বাঙালির ব

আরও পড়ুন

বাকি কথা ‘পুনশ্চ’তে

সরোজ দরবার


প্রিয় সিনে-বন্ধু,
কিছু কিছু ছবি মেজাজে যেন হেমন্ত ঋতুর মতো। তার সারা গায়ে মিশে থাকে শেষ বিকেলের আলো। কোথাও বা নিঝুম দুপুরে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার ভয়। কোনও কোনও ছবি যেন কবিতায় এক অমোঘ শব্দের ব্যবহারের মতো আমাদের চমকে দেয়। সচকিত করে। সে ছবিতে যেন যত সংলাপ লেখা হয়, তারও বেশি সংলাপ না বলা থেকে যায়। যতটুকু কথিত, কথন তারও বেশি। ঠিক যেভাবে গোটা গানের মধ্যে আলাদা করে সুন্দর হয়ে থেকে যায় সঞ্চারী, ঠিক যেভাবে পুনশ্চ হয়ে ওঠে চিঠিরও অধিক, সেরকমই ভালোলাগা দেয় কিছু কিছ

আরও পড়ুন

‘হাইওয়ে’

সরোজ দরবার


হাইওয়ে ধরে লং ড্রাইভে যেতে যেতে মাঝে মধ্যেই আমরা ব্রেক নিই। ধাবায় বসে চা-সিঙাড়া খেয়ে নিই। হালকা হয়েও নিই। কিন্তু যদি হাইওয়ের নাম হয় দাম্পত্য, তাহলে কী করবেন? অঙ্ক মাঝখানে পৌঁছে না মিললে শিক্ষক মহাশয়রা বলেন গোড়া থেকে শুরু করতে। কিন্তু সম্পর্কের অঙ্কে বোধহয় কেঁচে গণ্ডূষ করতে গেলে আদতে ভুলই হয়ে যায়। ঠিক সেই ভুলটাই করে বসল সোহিনী আর অশ্বিন। তারা কারা? তাহলে একটু গুছিয়ে বলা যাক।

হাইওয়ের টার্নিং পয়েন্ট
সোহিনী প্রবাসী বাঙালি কন্যে। আর অশ্ব

আরও পড়ুন

আন শিয়েন আন্দালু : কিছু কথাবার্তা

অনুপম মুখোপাধ্যায়


‘আন সিয়েন আন্দালু’ বা ‘আন্দালুশিয়ান ডগ’ ‘বা আন্দালুশিয়ার কুত্তা’ (১৯২৯)... লুইস বুনুয়েলের সব সিনেমার মধ্যে মোটেই আমার প্রিয় নয়। বরং সবচেয়ে কৌতুহলের। এর কারণ একটিই। এই সিনেমায় আমি অন্যান্য বুনুয়েলকে খুঁজে পাই না (‘গোল্ডেন এজ’ বাদ দিলে)। এই সিনেমা দেখার পরে যখন আমি তাঁর ‘লে চার্মে ডিস্ক্রিট ডি লা বুর্জোয়েসি’ (১৯৭২) দেখতে বসেছিলাম, আমি শুরু থেকেই ধাক্কা খেতে শুরু করেছিলাম। তারপরে যখন আবার ‘দ্যাট অবস্কিওর অবজেক্ট অব ডিজায়ার’ (১৯৭৭) দেখতে বসলাম, আবার শুরু

আরও পড়ুন

চিরকালের বাবাদের কথা

কৌশিক মজুমদার


এই সিনেমায় ডিজনি আছেন। এটি ডিজনির সিনেমা নয়।এই সিনেমায় "মেরি পপিন্স" বানানোর ইতিহাস আছে। কিন্তু এটা গড়পড়তা making of a film ও নয়। আসলে এ হল চিরন্তন বাবাদের গল্প। হাসি, কান্না, মজা সব কিছুর ফাঁকে নিরলস যে ধারা বয়ে চলে।


"মেরি পপিন্স" বইয়ের মলাট

লন্ডনের সতেরো নম্বর চেরি লেন বাড়ির ব্যাংক্স পরিবার আর তাদের বাড়িতে এক ঝড়ে উড়ুক্কু ছাতায় উড়ে আসা এক গভার্নেসকে নিয়ে ১৯৩৪ সালে "মেরি পপিন্স" বইটি লেখেন পামেলা "পি এল&q

আরও পড়ুন

ববি জাসুস

অরুণাভ গঙ্গোপাধ্যায়


১৯৯২-এর দাঙ্গার কবলে পড়া এক সর্বহারা নিজের স্ত্রীর হত্যাকারীকে নিজের হাতে নিকেশ করে বাধ্য হয়ে তিন ছেলেমেয়েকে এদেশে ফেলে পালানোর কুড়ি বছর পরে ফিরে এসে তাদের খুঁজতে গিয়ে নেহাতই এক পাতি প্রাইভেট ডিটেকটিভের সাহায্য নিয়ে তাদের খুঁজে পেলেও কেন সেই হারানিধিদের সামনে নিজের পরিচয় গোপন রাখে... পরিস্কার হলনা... শেষে জানা গেল এতদিন সে ছিল বিলেত নিবাসী... জানা গেল লন্ডন-এ সে কোনো এক স্টোরে হ্যান্ডমেড পেপার সাপ্লাইয়ের কাজে নিযুক্ত ছিল... কিন্তু সেই ‘কাগজ বিলি’ করে স

আরও পড়ুন

বাংলা প্যাকেটে দক্ষিণের পিৎজা কিংবা রিমেকের ভূত

সরোজ দরবার

বাংলা প্যাকেটে দক্ষিণের পিৎজা
সরোজ দরবার

টালিগঞ্জকে বেশ কিছুদিন হল ভূতে পেয়েছে। কিন্তু মুশকিল যেখানে ভূতের ভয়, সেখানে হাসি পায়। ভূতের ভবিষ্যতে কাটকাট মারমার হিউমার। কিন্তু গা ছমছমে ভয় ভয় ব্যাপারটা মিলবে কোথায়? নিম্নচাপের দৌলতে না হয় খানিক বৃষ্টি বাদলা পেলেন, তেলেভাজাটা ট্যাঁকের পয়সা খরচ করে কিনে নিলেন, কিন্তু সিনেমায় ঐ গা ছমছম ব্যাপারটা পুরোপুরি পরিচালকের হাতে। তো বাংলাতে হরনাথ চক্রবর্তী মশাইয়ের একটাও ছবি হরর ফিল্ম না হলেও, বিরসা দাশগুপ্ত

আরও পড়ুন

শেষ বলে কিছু নেই

সরোজ দরবার

সেই তো শেষবেলায় গানের কনসার্ট। অ্যালবাম প্রকাশ। যার অ্যালবাম প্রকাশ সে বিখ্যাত হয়ে যাবে। আর যার দৌলতে অ্যালবাম তিনি শেষ সিনে হাওয়া হয়ে যাবেন। তাহলে ‘শেষ বলে কিছু নেই’ আর ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’র মধ্যে তফাৎ কোথায়? তফাৎটা আসলে আক্ষরিক অর্থেই দত্ত ভার্সেস দত্ত। যে অঞ্জন দত্ত তথাকথিত মশালা ছবিতে হাত পুড়িয়ে টলি টকিজে গণেশ উল্টেছিলেন ভার্সেস যে অঞ্জন দত্ত গানে অভিনয়ে এবং পরিচালনায় আমাদের খুব চেনা। যার গানের স্রেফ গীটারটুকু বাঝলেই আমরা বুঝে যাই, তুমি আসবে ব

আরও পড়ুন

অতিনাটকীয় দারোগা দাওয়াই

সরোজ দরবার


ছবি- বঙ্কু বাবু
পরিচালক - অনিন্দ্য বিকাশ দত্ত
অভিনয় - শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত, লাবনি সরকার, অর্জুন চক্রবর্তী, অরুণিমা ঘোষ।
সংগীত - দেবজ্যোতি মিশ্র


পেটরোগা বাঙালির মজলিসে দারোগার দল চেহারায় না হোক চেয়ারের জোরে খানিকটা সম্ভ্রম আদায় করে নেন। অবসরপ্রাপ্ত দারোগা বঙ্কিমচন্দ্র চৌধুরীর নামখানা ছোট করে ‘বঙ্কু’ করলেও, পরিচালক অনিন্দ্য বিকাশ দত্ত বাঙালি স্বভাবেই তার পাশে একখানা ‘বাবু’ বসিয়েছেন। অর্থাৎ বঙ্কু দারোগা হলেন বঙ্ক

আরও পড়ুন

চলচ্চিত্র আলোচনা-চার

সরোজ দরবার


একটা ছবি। চারটে গল্প। পরিচালক সন্দীপ রায়।
অবধারিত ভাবেই মনে পড়ে যাবে ‘যেখানে ভূতের ভয়’ ছবির কথা।
কিন্তু কাহিনিকারের নাম আর বেশ কয়েকজন অভিনেতা ছাড়া ‘চার’-এর সঙ্গে তার কোনও মিল পাওয়া যাবে না। তা বলে এ ছবিতে ভূত নেই তা নয়, কিন্তু ভূতকে থিম করে ছবি আবর্তিত নয়। ঠিক এই জায়গাতেই একই ধরনের আগের ছবি থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছেন পরিচালক সন্দীপ রায়।
ছবিটির ভিতরে চারটে আলাদা ছবি আছে। প্রথমটি পরশুরামের কাহিনি নিয়ে ‘বটেশ্বরের অবদান’। দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি

আরও পড়ুন

চলচ্চিত্র আলোচনা- World Before Her

কৌস্তভ ভট্টাচার্য


মেয়েবাজের কনফেশন

প্রথমে কয়েকটা বোকাভ্যাবলা কনফেশন করে প্রমাণ করে ফেলা যাক লেখক নিতান্ত সত্যবাদী, আকন্ঠ সৎ, যুধিষ্ঠিরের লাইনে শেষ কথা ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি জীবনে সাতবার প্রেমে পড়েছি – সাতজন আলাদা আলাদা - মহিলার। এর মধ্যে দুখানা সাকসেস কিছুদিনের জন্য – শেষটা ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস। যাই হোক আঠাশ বছরে সাতখানা প্রেম মানে অন অ্যান অ্যাভারেজ প্রতি চারবছরে একটা। ব্যাপারটা যদিও অতো নীরস সেন্ট্রাল টেন্ডেন্সির অঙ্ক নয় – কারণ ঘটনাটা শুরু হয়েছে ১

আরও পড়ুন

ফিল্মিস্তান

কল্লোল লাহিড়ী


১৯৪৭ সালের ১৫ অগাষ্ট আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। তিনশো বছরের ইংরেজের গোলামীর পুরষ্কার স্বরূপ আমাদের উপমহাদেশটি দ্বিখন্ডিত হয়েছিল। যে ভারতীয়রা স্বাধীনতার যুদ্ধে লুকিয়ে, অন্যপথে, মারাত্মক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াইয়ের পন্থায় স্বাধীনতা নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন তাঁদের আমরা “আতঙ্কবাদী”, “টেররিস্ট”, “ডাকাত”, “সহিংসবাদী” নানা ব্যাখ্যায় ভূষিত করেছিলাম। অপর একজনকে বলেছিলাম “তোজোর কুকুর”। তাকে এমন একটা প্লেনে তুলে দিয়েছিলাম যাতে সে কোনো দিন আর দেশে ফির

আরও পড়ুন

সেলুলয়েডে ফুটল ‘রামধনু’

সরোজ দরবার

বলুন তো, আকাশে ওড়ে যন্ত্রও নয়, জীবন্তও নয় এমন কী জিনিস আছে?
কেউ বলবেন ঘুড়ি, কেউবা বলবেন সিগারেটের ধোঁয়া।
ঋষি দত্ত তার কচি গলায় সঠিক উত্তরটি দেবে- মেঘ।
ঋষি, যার ডাকনাম গোগোল, সে আকাশ দেখতে ভালবাসে। এরোপ্লেন ওড়ার শব্দ পেলে পড়া ফেলে একছুট। দাদুর সঙ্গে মাছ ধরা দেখে।
ও হ্যাঁ ঋষি দত্তের(আকাশনীল মিত্র) সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই। তার বাবা লাল্টু দত্ত(শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)। ‘মেডিসিন শপ’ চালান। বাঙ্গলা মিডিয়ামে পড়াশোনা। কথায় একটু ‘স’-এর দোষ আছে। বউকে বলেছেন

আরও পড়ুন

ক্যহেকে লুঙ্গা

সুপ্রভাত রায়

আমাদের সেই ছোট্ট সাদাকালো টিভিটায় ‘ডিডিওয়ানে’ রাত্রে যখন হিন্দি ছবি দিত, তখন সকাল থেকে বাবুই পাখির মতো আগ্রহ জড়ো করতাম ঠোঁটে ঠোঁটে নিজস্ব বাসা বানাবো বলে। নামটা জেনে নিয়েই বাবার কাছে একটাই প্রশ্ন থাকত, একটাই জানতে চাওয়ার বিষয়; মারামারি আছে ? নায়ক আর ভিলেনের নাম দেখে উৎসাহের গোঁড়ায় জল দিতাম দিনভর। আমজাদ খান আর অমরিশ পুরি থাকলে ওরা এমন কিছু বদমাইসি করবেই যে মারামারি থাকবেই, তা সে যত শান্ত নায়কই থাকুক না কেন। নায়কের নাম রাজেশ খান্না, বিনোদ মেহেরা এই রকম কিছ

আরও পড়ুন

লারস ভন ট্রায়ারের ‘নিম্ফোম্যানিয়াক’ দেখলাম

অনুপম মুখোপাধ্যায়

এভাবেই জল খসে, এভাবেই মাল।
কেউ মারে উঁকিঝুঁকি, কেউ পাড়ে গাল।।


লারস ভন ট্রায়ার আবার একটা সিনেমা বানাচ্ছেন, তার নাম ‘নিম্ফোম্যানিয়াক’, এটা জানার পর থেকে অধীর ছিলাম। তারপর জানলাম সেটা দুটো পার্টে বেরিয়েছে। অহেতুক মনে হয়েছিল, তবে কি এটা কোয়ান্টিন টারান্টিনোর ‘কিল বিল ১+২’-এর জবাব বা প্রভাব? দুটো পার্টে নায়িকা কেন্দ্রিক ছবি হলেই সেটা হয় না, তবু মনে হয়েছিল। এভাবেই তো হয়। এভাবেই ‘থ্রিলারঃ আ ক্রুয়েল পিকচার’ নামক প্রায় থ্রি এক্স অধুনা বিস্মৃতপ্রা

আরও পড়ুন

বাড়ি তার বাংলা

ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী

প্রথমেই বলে রাখি এই চলচ্চিত্রটি একটি আদ্যোপান্ত মজার বাণিজ্যিক ছবি। তাই যা কিছু ভালো মন্দ নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে বলব, তার মূল মাপকাঠিটা অবশ্যই বাণিজ্যিক। রূপচাঁদ সেন (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) একজন ৪০ বছর বয়সী ভদ্রলোক, যিনি একটি বিচিত্র সমস্যায় পড়েছেন। তিনি কিছুতেই বাংলা লিখতে পারছেন না; বলে দিলে হয়তো লিখতে পারছেন কিন্তু নিজে ভেবে কিছু বাংলা লিখতে পারছেন না। এক সময়ে যিনি সমস্ত বাংলা কাঁপাতেন তার ছড়া দিয়ে, আজ তার এই করুণ পরিণতি। আর সেই জন্যই তিনি একজন মনোবিদ

আরও পড়ুন

খাসি-কসাইয়ের আরব্য রজনীতে বাংলা ছবি

সরোজ দরবার

চমক ছিল দুটো। এক, সেলুলয়েডে খাসি মুখে কথা শোনা। দুই, বাংলা ছবিতে বহুদিন পরে নাসিরুদ্দিন শাহের অভিনয়। কিন্তু ছবি একটু এগোতেই বোঝা গেল এগুলোর কোনটাই চমক ছিল না। চমক যদি কিছু থেকে থাকে তবে তা পরিচালক যুধাজিৎ সরকার স্বয়ং।

কী কথা খাসির সনে...

খাসি তো যে সে খাসি নয়। একেবারে প্রোফেসর টাইপ। জন্ম থেকে যে জীবন মৃত্যুর
দিকেই যাচ্ছে এহেন দার্শনিক সত্যি কসাই না জানুক খাসি দিব্যি জানে। বিশ্বায়ন ঢুকে পড়া তৃতীয় বিশ্বের বাজারে তৃতীয় শ্রেনির পশু হয়েও

আরও পড়ুন